Spread the love

স্কুল যেতে কার না ভাল লাগে। ছোট বেলায় আমরা খুব মজায় মজায় স্কুলে যেতাম। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার জন্য গলা পানিতে সাঁতার কেটে অবিরাম লড়াই করে যাওয়া আসলেই অনেক কষ্টের বটে।

ফিলিপাইনের কিছু শিশু প্রতিদিন কিলোমিটার পানিতে সাঁতার কেটে স্কুলে যাই। সাঁতারের সময় দুই হাত ওপরে তুলে রাখে। সে হাতে শক্ত করে ধরা থাকে প্লাস্টিকের একটি থলে, যে থলেতে থাকে তাঁদের বই, খাতা এবং স্কুলের পোশাক। এই লড়াই তাঁদের প্রতিদিনের। স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন শিশুরা প্রায় এক কিলোমিটার পানিপথ পাড়ি দেয়। কিন্তু পানি স্রোত বেড়ে গেলে তখন সাঁতার কেটে স্কুলে যাওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

শিশুদের এই কষ্ট দেখে এগিয়ে এসেছে ‘ইয়োলো বোট অব হোপ ফাউন্ডেশন’ নামে দেশটির একটি দাতব্য সংস্থা।  শিশুদের স্কুলে যাওয়ার কষ্ট দূর করতে তারা বেশ কিছু হলুদ রঙের নৌকা সরবরাহ করেছে। ছোট একটি নৌকা কিনতে প্রায় ২০০ ডলার খরচ হয়। এতে সারিবদ্ধভাবে ৬ থেকে ৮ জন শিশু বসে পানিপথ পাড়ি দিতে পারে। এক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বড় নৌকাগুলো অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মা-বাবা, শিক্ষক অথবা সিনিয়র শিক্ষার্থীরা পরিচালনা করতে পারে।

ফাউন্ডেশনটি  দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দারিদ্রপীড়িত মিন্দানা ও দ্বীপের জামবোনগা শহরের উপকূলীয় এলাকার জেলে ও সমুদ্র চাষীদের প্রথমবার সহায়তা করেছিল।

জ্যাবোনেতা বলেন, ‘ আমি শিশুদের এই অবস্থা সম্পর্কে জানতাম না। কিন্তু যখন জানলাম এই সম্পর্কে তখন আমি হতবাক হয়েছিলাম এবং এ ব্যাপারে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলাম।’ এই পোস্টের পর তাঁর অনেক বন্ধু শিশুদের সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন এবং অনেকেই আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। বর্তমানে এই দাতব্য সংস্থাটি পুরো ফিলিপাইনে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের জন্য বেশি কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। কিছু কিছু প্রকল্পে তারা শিশুদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন। যেসব শিশুরা দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যায়, তাঁদের জন্য স্কুলের পাশে আবাসিক ভবন ব্যবস্থা করেছেন। ২০১০ সাল থেকে হোপ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০০ সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করেছে।

জ্যাবোনেতা বলেন, আমরা কোনো সম্প্রদায়ের নেতা অথবা স্থানীয় স্কুলের সঙ্গে কাজ করি। আর এসব অর্থ আসে স্থানীদের কাছ থেকে, যারা পার্থক্য ঘুচানোর জন্য সাহায্য করতে চান।

সাধারণত ফেসবুকের মাধ্যমেই তাঁদের জনকল্যাণমূলক কাজের শুরু হয়েছিল। দেশটির প্রায় অনেকেই ইয়োলো বোট অব হোপ ফাউন্ডেশনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক কাজের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here