Spread the love

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সারাবিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৮ লাখ। এই বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আগে অনেক নেতিবাচক তথ্য আমরা জানতাম। কিন্তু বর্তমান উপাচার্যের নেতৃত্বে এই বিশ্ববিদ্যালয় আজকে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়ে মৌলিক বই রচনা করতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে নোট-গাইডের বেশ প্রাধান্য। সেটি আমাদের রোধ করতে হবে।

শনিবার (২ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পারফরমেন্স র‍্যাংকিং ২০১৬-১৭ অ্যাওয়ার্ড ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বক্তব্য রাখেন।

বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুরে মূল ক্যাম্পাস থেকে সারাদেশে দুই হাজারের বেশি কলেজ নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

দেশের ৮টি বিভাগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি ক্যাম্পাস করা যেতে পারে কিনা- তা ভেবে দেখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন,  পরীক্ষার কারণে পাঠদান অনেকখানি ব্যাহত হয়। এতো ক্র্যাশ প্রোগ্রাম করা হয়েছে, সেশন জট কমানো হয়েছে কিন্তু আমাদের বছরব্যাপী যে পরীক্ষাগুলো হয়; এইচএসসি, ডিগ্রি, অনার্স মাস্টার্স পরীক্ষাই চলতে থাকে। সেই পরীক্ষার কারণে কিন্তু পাঠদান অনেকখানি বিঘ্নিত হয়। এটি অন্যান্য স্তরের জন্যও অনেকখানি প্রযোজ্য। তবে এই ক্ষেত্রে (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়) অনেক বেশি প্রযোজ্য। কারণ এদের পরীক্ষা অনেক বেশি, বছরব্যাপী।

তিনি বলেন, মাধ্যমিকে যেমন শুধু নির্দিষ্ট একটা মাস বা দেড় মাস পরীক্ষা থাকে। কিন্তু অন্যদের বছরব্যাপী। কাজেই সেইখানে আমাদের আবারো এই পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করে, মানে সেগুলো পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবেই কাজ করবে। সেই বিষয়টি নিয়ে আমাদের উগ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্য চ্যালেঞ্জ ছিল সেশনজট নির্মূল করা, ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সেই সেশনজট দূর করা হয়েছে। বর্তমানে একাডেমি ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা হচ্ছে। সেখানে সারা বছরের ভর্তি, পরীক্ষা, ফল প্রকাশসহ একাডেমিক সকল কার্যক্রমের অগ্রিম দিন-তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে।এখন আমাদের শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকে জোর দিতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য মডেল কলেজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মান বিবেচনায় সেখানে পাঁচটি কলেজকে স্থান দেওয়া হবে। এছাড়া ১৩টি শতবর্ষী কলেজকে আলাদা করে প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ৭১৮টি স্নাতক (সম্মান) পাঠদানকারী কলেজের মধ্যে জাতীয়ভিত্তিক স্কোরে ২০১৭ সালের ৫টি সেরা কলেজ, ১টি সেরা মহিলা কলেজ, ১টি সেরা সরকারি কলেজ ও ১টি সেরা বেসরকারি কলেজের নাম ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। এছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রতি দৃষ্টি রেখে বিভিন্ন র্যাংকিংয়ে সেরা অঞ্চলভিত্তিক আরও ৬৮টি কলেজের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কলেজকে অ্যাওয়ার্ড, সনদ ও চেক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here