Spread the love

মা জননী। ১০মাস ১০দিন আমাদের গর্ভে রাখে। আর কুড়ি বছর আমাদের লালন-পালন করেন। মায়ের সাথে আমাদের নাড়ের টান। মা এমন একজন মানুষ যে আমাদের জন্মের আগ থেকে ভালবাসে, অনুভব করে। মা প্রতিটা কষ্ট নিজে একাই বহন করে যাতে আমাদের কোনো কষ্ট ছুঁতে না পারে। মা আমাদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করেন যাতে আমরা একদিন সু-শিক্ষিত হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। কিন্তু সে সু-শিক্ষিত সন্তান যদি সে মাকে অবহেলা করে তাহলে কতটা কষ্ট হয় প্রতিটা মায়ের। প্রতিটা সন্তানের কর্তব্য তার মার সেবা-যত্ন করা। প্রতিটা সন্তানের দায়িত্ব এটা। কিন্তু সমাজে এমন কিছু সু-সন্তান রয়েছে যারা মায়ের খোঁজ নিতেই পাহাড়-পর্বত কষ্ট লাগে। সমাজে এমন কিছু সন্তান আছে যাদের জন্য আজ অনেক মায়ের স্থান বৃদ্ধাশ্রমে।

ফেনীতে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা থাকেন একটি পরিত্যক্ত কক্ষে। ২২ই জানুয়ারী বিকেলে ফেনী পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ড মধুপুর থেকে মৃদুলা রানী নামে এক মুমূর্ষ বৃদ্ধা মাকে উদ্ধার করেন ফেনী জেলা পুলিশ। বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়রা বৃদ্ধাকে মৃত বলে পুলিশকে জানায়। কিন্তু পুলিশ তাকে জীবিত উদ্ধার করে।

২০ বছর আগে ১৯৮৩ সালে স্বামী মারা যান। ৫ সন্তানের মা মৃদুলা সাহা। বড় ছেলে বাপ্পি ও বিপুল সাহা ফেনী শহরে চালের আড়তের মালিক। ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ততার জন্য তারা মায়ের খোঁজ নিতে পারে না। তারা তাদের স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্য বাসায় থাকেন। আরেক ছেলে বিসিএস ক্যাডার। কক্সবাজার থাকেন। মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শর্বরী সাহা ও গৃহিনী সুমি সাহা থাকেন শ্বশুর বাড়িতে। স্থানীয়দের মতে ৪ বছর ধরে তার সন্তানরা তার খোঁজ নেই না। একাকি এক ঘরে পড়ে থাকেন তিনি অনাহারে।  অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকেন বিছানায়। অনেক সময়  লেপটে থাকেন নিজের মলমূত্রের মাঝে। বিত্তবান ও উচ্চশিক্ষিত ছেলে মেয়েরা নিজ সংসার নিয়ে এত ব্যস্ত যে বৃদ্ধ মায়ের খোঁজ নেওয়ার সময় টুকু পায় না।

সমাজে এমন ঘটনা অনেক শুনতে পাওয়া যায়। এমন অনেক সন্তান রয়েছে যারা মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে যায়। যে সন্তানকে নিজের সুখ ত্যাগ করে সু-শিক্ষিত করে তোলে একদিন সে সন্তানই নিজ সুখের জন্য মা-বাবাকে ত্যাগ করে। সব সন্তান এক নয়। কিছু সন্তান নিজ মায়ের খোঁজ নেয় না, আর কিছু সন্তান অন্যের মায়ের দায়িত্ব নেই। অনাহারে,অসুস্থতায় এক বিসিএস ক্যাডার ছেলে মায়ের খোঁজ নিতে পারে না। এ অবস্থায় ওই বৃদ্ধা মায়ের দায়িত্ব নিয়েছেন দুই বিসিএস ক্যাডার। তাদের একজন সিভিল সার্জন অন্যজন পুলিশ সুপার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here