Spread the love

বাইসাইকেল একটি ব্যাপক প্রচলিত বাহন। একসময় অনেকের সখের বাহন ছিল বাইসাইকেল। যদিও সময়ের সাথে এই সখেরও পরিবর্তন হয়েছে। তবুও এখনো অনেকে সখের বশে বাইসাইকেল ব্যবহার করে। একটা সময় যার বাড়িতে বাইসাইকেল থাকত তাকে গ্রামের লোকজন সৌখিন ও মধ্যবিত্ত ব্যক্তি বলে মনে করত। আবার মেয়ের বিয়েতে জামাইকে উপহার হিসেবে দেয়া হতো বাইসাইকেল। কিন্তু এখন সময়ের বিবর্তনে এর জায়গা দখন করে নিয়েছে মোটরসাইকেল ।

নওগাঁর আত্রাইয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে জীবিকা অর্জন করছে বেশ কিছু মানুষ। জীবিকার তাগিদে তারা বাইসাইকেল চালিয়ে ইট, বালু, সিমেন্টসহ নানা ধরনের পণ্য টেনে অর্থ উপার্জন করছে। আত্রাই নদীর তীরে গড়ে উঠেছে আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের বান্দাইখাড়া বাজারটি। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে চারদিকে যখন পানি তখন মনে হয় যেন একটি দ্বীপ। উঁচু নিচু রাস্তা। রাস্তা কাঁচা এবং সরু হওয়ায় সেগুলো ভ্যান-রিকশা চলাচলের উপযোগী নয়। তাই বাইসাইকেল কে জীবিকার উৎস হিসেবে নিয়েছে সেখানকার বেশ কিছু মানুষ। সারা বছর বাইসাইকেলে নানা পণ্য পরিবহন করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন।

এর পাশেই দুটি ইটভাটা। ইটের মৌসুমে তাঁদের বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়। শ্রমিকদের সাতজনের একটা দল আছে। সাইকেলের দুই পাশে বড় দুইটি বস্তা কায়দা করে বেঁধে থরে থরে ইট বসানো হয়। প্রতিটা বাইসাইকেলে প্রায় ৮০-৯০টি করে ইট নেয়া যায়। ভাটা থেকে রাস্তা কিছুটা উচু হওয়ায় একজন অপরজনকে সাইকেলের পেছন থেকে ঠেলে ওপরে উঠতে সহযোগিতে করেন। এরপর সবাই একসঙ্গে মালিকদের বাড়িতে ইট পৌঁছে দেন। ইট বহন ছাড়াও তারা বাজার থেকে বিভিন্ন পণ্য বহনের কাজও করে থাকে।

শ্রমিক জাকির হোসেন বলেন, প্রায় সারা বছরই তারা সাইকেলের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ইটভাটা থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে ইট বহনের কাজ করেন তারা। প্রতি হাজার ইট ভাটা থেকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে তারা হাজার টাকা করে ভাড়া নেন। তবে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া কিছুটা কমবেশি হয়ে থাকে। দূরত্ব দুই কিলোমিটারের মধ্যে হলে হাজারে ৬০০-৭০০ টাকা করে ভাড়া নেন।

আরেক বাইসাইকেল-শ্রমিক ইনতাজ হোসেন, সুমন ও ফারুক হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। তারা বলেন, ইটের মৌসুমে ইট বহনের কাজ করলেও অন্য সময়ে হাট-বাজারে ধান, সার ও সিমেন্টের বস্তা বহনের কাজ করেন তারা। এর আয় থেকেই চলে তাদের সংসার। দিনে প্রায় ৩০০-৪০০ টাকা মজুরি পেয়ে থাকেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here