Spread the love

একদিন ফ্রেন্ডদের সাথে ঘুরতে গেলাম। ফ্রেন্ডরা নুডলস অর্ডার করল। সবাই নুডলস খাচ্ছিলাম। এমন সময় একটা ফ্রেন্ড বলে উঠল “ আচ্ছা দেখত সস গুলা দেখতে কিসের মত যেন লাগছে”। তা শুনে সবাই কি হেসে উঠল। আর মেয়েরা লজ্জায় চুপ। এমন অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় মেয়েদের। কাপড়ের পেছনে লাল ছোপ দাগ দেখে কত প্রশ্নই না তোলে মানুষ।

এই আধুনিক যুগে আমরা কতই না উন্নত হচ্ছি। কিন্তু চিন্তাভাবনা কি পরিবর্তন হচ্ছে। এখনো মেয়েদের পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা পেতে হয়। কিন্তু কেউ লজ্জা দেওয়ার আগে এটা ভাবে না পিরিয়ড এ একটা মেয়েকে কত কষ্ট সহ্য করতে হয়।

পিরিয়ড শুধু বাচ্চা হওয়ার জন্য হয়? কেন হয় পিরিয়ড

প্রতিমাসে মেয়েদের গর্ভাশয় তার বাইরের আবরণটাকে শক্ত করে যেন গর্ভবতী হওয়ার পর বাচ্চাকে আশ্রয় দিতে পারে। পরে যখন ভ্রূণ নিষিক্ত হয়না তখন সে তার শক্ত আবরণটাকে ছিড়ে ফেলে আবার পরের মাসের জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। যে কারণে মেয়েদের শরীরের ভিতরের একটা অঙ্গ ছিড়ে সেটা সেই রক্তের সাথে বের হয়ে যায়। এই সময় তার কষ্টটা বুঝার চেষ্টা করেছেন কি। এই সময়ে পুরা শরীর অবশ হয়ে যায়, পেটের ব্যথা এমন হয় যেন মনে হয় কেউ ভেতরে চুরি দিয়ে আঘাত করছে,মাথা ব্যথা,বমি। এই মাসে আমরা ঘুরতে যাব, ওহ এই তারিখে আমি বের হতে পারব না, বিয়ে,অনুষ্ঠান কোনো কিছু যখন ঠিক হয় তখন মেয়েটি ক্যালেন্ডারের পাতা দেখে কারণ সে যেতে কি পারবে ওই দিন। সারাটা দিন অফিসের কাজে ব্যস্ততার মাঝে সে কি পারে বলতে তার যে কষ্ট হচ্ছে এভাবে বসে থাকতে, বন্ধুরা যখন ফাস্টফুড খাচ্ছে তখন সে এড়িয়ে যাচ্ছে। কেউ একবারও ভেবে দেখেছে এসব। কতটা কষ্ট সহ্য করতে হয় একটা মেয়েকে।

একজন মা তার সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে লিখেছেন আজ স্কুল থেকে বাসে করে বাড়ী ফেরার সময় আমার মেয়ের প্রথম পিরিয়ড স্টার্ট হয়। তার স্কার্টে দাগ দেখে একটা ছেলে তার কাছে এগিয়ে আসে এবং তাকে এক কোনে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে কানে কানে বলে, তার ড্রেস এ দাগ লেগেছে। তারপর নিজের সোয়েটার টা এগিয়ে দিয়ে বলে ওটা কোমরে বেঁধে নিতে।মেয়েটা অস্বস্তি বোধ করলে সে আশ্বস্ত করে, বলে, লজ্জার কিছু নেই, আমারও বোন আছে, আমি জানি এটা স্বাভাবিক।
মেয়েটির মা এরপর সেই ছেলের মাকে উদ্দেশ্য করে লেখেন- সঠিক ভাবে পুত্রকে মানুষ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!!

প্রত্যেক ছেলের উচিত এমন হওয়া। একটা মেয়েকে লজ্জা না দিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা।  এই ব্যাপারে কেউ লিখতে চাই না কারণ নোংরা কমেন্টের শিকার হতে হয়। নোংরা কমেন্ট না করে নিজেকে পরিবর্তন করুন। এমন সমস্যায় হাসি ঠাট্টা না করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here