Spread the love

বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে রাখতে চায় অনেক পরিবার। আর দরিদ্র পরিবারগুলোতে এসব শিশু আরও অসহায় বলে প্রায়ই ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত হয় তারা। ফলে ব্যাহত হয় তাঁদের বিকাশ। অনেকে বোঝা ভাবে প্রতিবন্ধী শিশুদের। অথচ উপযুক্ত শিক্ষার সুযোগ পেলে এই শিশুরাই পরিবারের বোঝা না হয়ে স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে উঠতে পারে।

এমন শিশুদের জন্য শিক্ষার সুযোগ করে দিতে উদ্যোগী হয়েছেন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা লালমনিরহাটের এক কৃষক।

উনার নাম মো আব্দুর রশীদ। তিনি লালমনিরহাটের একজন কৃষক। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তিনি নিজের জমি বিক্রি করে স্কুল তৈরি করেন। তার কাছে প্রায় ভিক্ষার জন্য ভিক্ষুক আসে যাদের কলে প্রায় প্রতিবন্ধী শিশু দেখা যায়। সেসব প্রতিবন্ধী শিশুদের দেখে তিনি এই উদ্যোগ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কালীগঞ্জ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় নাম দেয়া হয় এই স্কুলটির। গ্রামের মানুষের ঘর-বাড়ি, হাট-বাজারে গিয়ে গিয়ে কারো কাছ থেকে বাশ, কারো কাছ থেকে টিন খুজে খুজে তিনি এই স্কুল নির্মাণ করেন। আশেপাশের প্রায় ৩০টি গ্রাম থেকে প্রতিবন্ধীরা স্কুলে আসে। কোন কোন শিক্ষার্থী প্রায় ৬ কিলোমিটার দূর থেকে আসে।

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী বাচ্চা শিক্ষা পাই না, অন্য স্কুল গুলোতে প্রতিবন্ধী বলে নেই না। তাই আমি এই স্কুল করি। প্রতিটা গ্রামে ঘরে ঘরে গিয়ে আমি এই বাচ্চা সংগ্রহ করেছি। অনেকে দিতে চায় না। লুকিয়ে রাখে প্রতিবন্ধী বাচ্চা বলে লজ্জায়।

দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থী আনার নেওয়ার জন্য রয়েছে ২টি অটোরিক্সা। স্কুলে শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ৩০০জনের মত। কিন্তু চিকিৎসার অভাবে গত বছর মারা যায় প্রায় ১৮/১৯ টা শিশু। স্কুলে সহকারী শিক্ষক সহ শিক্ষক রয়েছে প্রায় ৩৫ জন। এসকল শিক্ষক তিনি নিজেই নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি তাঁদের কোনো বেতন দিতে পারেন নি।

তিনি বলেন, এই স্কুল নিয়ে আমার ইচ্ছা প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষায় শিক্ষিত করা। যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে। তাঁদের যেন ভিক্ষা করতে না হয়। অন্যের কাছ থেকে সহানুভুতি,সহায়তা যাতে নিতে না হয় তাঁদের।

সূত্রঃ বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here