সংগৃহিত
Spread the love

কথা বলতে পারে না, কানেও শুনতে পাই না। কিন্তু ছবি আঁকতে পারে অসাধারণ। জন্মের পর থেকে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। কখনো কারো কাছ থেকে অংকন শিখে নি। কিন্তু প্রতিনিয়ত একেঁ চলেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়সহ নানা গুণীজনের ছবি। তার ইচ্ছা নিজের আঁকা ছবি দেখাতে চায় প্রধানমন্ত্রীকে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি ঘোষপাড়া নিবির পল্লীর দরিদ্র কৃষক কুটিশ্বর ও গৃহিনী সুমিত্রা রানী দাস দম্পতির ছোট মেয়ে মিতু রানী দাস (১৬)। চলতি বছরে সে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। কানে শোনা ও কথা বলতে না পারা কিশোরী মিতু পড়াশুনাতেও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। গরীব বাবার ছোট সন্তান মিতুর ভাগ্যে জোটেনি একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড। তার ভীষণ ইচ্ছে নিজের আঁকা ছবিগুলো  প্রধানমন্ত্রীকে দেখানোর।  চার ভাই বোনের মধ্যে মিতু সবার ছোট। বড় বোন রেপা রানী দাসও বাকপ্রতিবন্ধী। অনেক কষ্টে তার বিয়ে দেওয়া হয়। মেজ বোন রিতা মাস্টার্স পাশ করার পর বিয়ে হয়ে যায়। বড় ভাই রিপন কুমার দাস ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করে। দারিদ্যতার মধ্যেও কুটিশ্বর দাস ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মা সুমিত্রা রানী দাস আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বলেন,‘বড় মেয়ের পর ছোট মেয়েও (মিতু) বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়ায় খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু বড় হওয়ার পর তাকে (মিতু) স্কুলে ভর্তি করে দেই। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় মিতু ছবি দেখে হুবহু আঁকতে শুরু করে। ভেবেছিলাম প্রাইমারি পাস করলে আর পড়াবো না। কিন্তু মেয়ের প্রবল আগ্রহ দেখে বাধা দেইনি।’

চাটমোহর শিল্পকলা একাডেমির অংকন শিক্ষক মানিক দাস বলেন, ‘ বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর আকাঁনো চিত্রকর্ম দেখে আশ্চর্য হয়েছি। সত্যি এটা ঈশ্বর প্রদত্ত ব্যাপার। না শিখে তার মধ্যে যে প্রতিভা আছে তা আর কোথাও দেখা যায়নি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মিতু অনেক দূর পৌঁছাবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার মিতুর ব্যাপারে বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর চিত্রকর্ম আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার জন্য ভাতার কার্ড করে দেওয়ার পাশাপাশি, মিতুর সুপ্ত প্রতিভা যেন বিকশিত হয় সে দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন থেকে নেওয়া হবে।’

সূত্রঃ কালেরকন্ঠ

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here