Spread the love

ক্লডিয়া ক্যাম্পেনেলা যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কাজ করেন। ক্লডিয়ার বয়স ৩১। কাজের ফাঁকে তিনি নিজের মল দান করেন অন্যদের। শুনতে অবাক লাগলেও এটা সত্যি। ডাক্তাররা বিশেষজ্ঞরা বের করেছেন – ক্লডিয়ার মলে আছে এমন উৎকৃষ্ট মানের ব্যাকটেরিয়া যা অন্যের দেহে প্রতিস্থাপন করে বিভিন্ন পেটের রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই ক্লডিয়া এটাকে রক্তদানের মত স্বাভাবিক ব্যাপার মনে করে দান করে থাকেন।

ক্লডিয়া বলেন “ আমার অনেক বন্ধু মনে করে এটা একটা জঘন্য এবং উদ্ভট ব্যাপার। কিন্তু এটা আমাকে বিচলিত করে না। এটা দান করা খুবই সহজ এবং আমি চিকিৎসা গবেষণায় অবদান রাখতে পেরে খুশি।“

মানুষের পেটের ভেতরে নাড়িভুডিতে বাস করে অসংখ্যরকম অনুজীব। কিন্তু বর্তমানে মানুষ যে এ্যান্টিবায়োটিক খান তা অনেকসময় শরীরের ভাল বা খারাপ দুই ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে নির্বিচারে মেরে ফেলে। ব্যাকটেরিয়া নির্মূল হয়ে যাবার পর যে বিরান পরিবেশ তৈরি হয় -তাতে ‘ক্লস্ট্রিডিয়াম ডিফিসিল’ নামে বিশেষ এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি ঘটাতে থাকে।  এর ফলে এমন ডায়রিয়া হয় যার সাথে রক্তপাত,জ্বর, পেটে ব্যথা হতে পারে। অনেকক্ষেত্রে এটে এতই মারাত্মক হয় যে রোগী মারাও যায়। এই পরিস্থিতিতে আরো এ্যান্টিবায়োটিক  দেয়ার চাইতে এই ‘মন প্রতিস্থাপন’ চিকিৎসা বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ একজন সুস্থ ব্যক্তির মল থেকে ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো সংগ্রহ করে তা রোগীর মলদ্বার দিয়ে শরীরে প্রবেশ করা হয়। একে বিজ্ঞানীরা বলেছেন ‘Super poo’। আর ক্লডিয়া হল ‘Super Donar’ বা দাতা।

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটির ড. জাস্টিন ও’সুলিভান একজন অনুজীব বিশেষজ্ঞ বলেন, “সুপার পু কেন এত বিরল এটা বের করতে পারলে আমরা শুধু যে মল প্রতিস্থাপনে সাফল্য বাড়াতে পারবো তাই নয়, আলঝেইমারস ডিজিজ, হাঁপানি এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস-এর মতো ব্যাকটেরিয়াঘটিত অন্য রোগেরও চিকিৎসায় একে কাজে লাগানো যেতে পারবে।” ক্লডিয়া একজন নিরামিষভোজী, আর নিরামিষভোজীরা ভালো মল-দাতা হতে পারেন – এটা জানার পরই তিনি একজন ডোনার হতে আগ্রহী হন।

সূত্রঃ বিবিসি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here