মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৩৭৮ শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি

0
131
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ১৩৭৮ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ১৩৭৮ জনকে নেওয়া হবে। এর মধ্যে বাংলা বিষয়ে ৩৬৫, ইংরেজি ১০৬, গণিত ২০৫, সামাজিক বিজ্ঞান ৮৩, ভৌতবিজ্ঞান ১০, জীববিজ্ঞান ১১৮, ব্যবসায় শিক্ষা ৮, ভূগোল ৫৪, চারুকলা ৯২, শারীরিক শিক্ষা ৯৩, ধর্ম ১৭২ ও কৃষিশিক্ষা বিষয়ে ৭২ জন নিয়োগ পাবেন। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে এ নিয়োগ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিটি পাওয়া যাবে http://www.bpsc.gov.bd/ ওয়েবসাইটে ।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ

❑❑ আবেদনের যোগ্যতা:
বাংলা, গণিত, ইংরেজি, ভূগোল, চারুকলা, শারীরিক শিক্ষা, কৃষিশিক্ষা বিষয়ে আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চার বছর মেয়াদি কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ, নৃবিজ্ঞান, লোক প্রশাসন বা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে, ভৌতবিজ্ঞান বিষয়ে আবেদনের জন্য পদার্থবিজ্ঞান, ফলিত পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ফলিত রসায়ন, ফার্মেসি বা প্রাণরসায়ন বিষয়ে, জীববিজ্ঞান বিষয়ের জন্য প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিজ্ঞান বা মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে, ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের জন্য হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, ব্যবস্থাপনা বা মার্কেটিং বিষয়ে, ধর্ম বিষয়ে আরবি বা ইসলাম শিক্ষা বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে আবেদন করা যাবে। সংশ্লিষ্ট নৈর্বাচনিক বিষয়সহ চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি এবং বিএড বা ডিপিএড ডিগ্রি থাকলেও আবেদন করা যাবে। কৃষিশিক্ষা বিষয়ে আবেদনের জন্য কৃষিশিক্ষা বিষয়সহ চার বা তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা, শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের জন্য স্নাতক ডিগ্রিসহ ব্যাচেলর অব ফিজিক্যাল এডুকেশন (বিপিএড) ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা থাকলেও চলবে।

বিএড বা ডিপিএড ডিগ্রি না থাকলে নিয়োগ পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে ডিগ্রি নিতে হবে। শিক্ষাজীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ, শ্রেণি বা সমমানের সিজিপিএ থাকলে আবেদন করা যাবে না। ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে প্রার্থীদের বয়স হতে হবে অনূর্ধ্ব ৩০ বছর। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

❑❑ আবেদনের নিয়ম:
অনলাইনে http://bpsc.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। ওয়েবসাইটের নন-ক্যাডার বাটনে ক্লিক করলে আবেদনের নিয়ম, এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন ফি জমাদানের বিস্তারিত নিয়ম জানা যাবে। ইতিমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে ৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

❑❑ পরীক্ষা পদ্ধতি:
সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। নিয়োগ পরীক্ষা হবে দুই ধাপে—লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা হবে এমসিকিউ বা বহু নির্বাচনী পদ্ধতিতে। পরীক্ষার পূর্ণমান ২০০ নম্বর, সময় ২ ঘণ্টা। এর মধ্যে বাংলা বিষয়ে ৫০টি, ইংরেজি ৫০টি, সাধারণ জ্ঞানে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি থেকে ৪০টি এবং গণিত ও মানসিক দক্ষতায় ৬০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাওয়া যাবে। প্রত্যেক ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে ০.৫০ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ডাকা হবে মৌখিক পরীক্ষায়। এ অংশে বরাদ্দ ৫০ নম্বর। মৌখিক পরীক্ষায় পাস করতে হলে কমপক্ষে ২০ পেতে হবে। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

❑❑ ইংরেজি:
ভোলার দৌলতখান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক মো. হামিদ পারভেজ বলেন, ইংরেজি গ্রামারের Right forms of verb,Tense,Number,Gender,Preposition,Parts of Speech,Voice,Narration, Spelling, Correction থেকে প্রশ্ন আসে। যেকোনো ভালো মানের গ্রামার বই থেকে এই টপিকসগুলো উদাহরণসহ পড়তে হবে। মুখস্থ করতে হবে Phrase and Idioms,Synonym, Antonym. ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদও পড়তে হবে। ইংরেজি সাহিত্য থেকে কবি-সাহিত্যিকদের সাহিত্যকর্ম, তাঁদের যুগ, বিভিন্ন লিটারেরি টার্মস, নোবেলজয়ী লেখক এবং নাটক-উপন্যাসের বিখ্যাত লাইন ও বিভিন্ন চরিত্র থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।

❑❑ বাংলা:
চট্টগ্রামের পটিয়া আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভৌত বিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক মুহাম্মদ মাহফুজুল আলম জানান, বাংলায় মূলত সাহিত্য ও ব্যাকরণ থেকে প্রশ্ন আসে। সাহিত্যের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রাচীন ও মধ্য যুগ সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। আধুনিক যুগের প্রস্তুতির বেলায় গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের সম্পর্কে জানতে হবে। পিএসসির বিভিন্ন পরীক্ষায় আবদুল হাকিম, আলাওল, ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর, আনোয়ার পাশা, আবুল কালাম শামসুদ্দিন, আবুল মনসুর আহমদ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, কায়কোবাদ, জসীমউদ্দীন, জহির রায়হান, জীবনানন্দ দাশ, দীনবন্ধু মিত্র, প্রমথ চৌধুরী, প্যারীচাঁদ মিত্র, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, মুনীর চৌধুরী, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, বেগম রোকেয়া, শওকত ওসমান, শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শামসুর রাহমান, সুকান্ত ভট্টাচার্য, সুফিয়া কামাল, সৈয়দ শামসুল হক প্রমুখ সাহিত্যিক সম্পর্কে বেশি প্রশ্ন আসে। এ ছাড়া সম্প্রতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিকদের সম্পর্কে জানতে হবে। বাংলা ব্যাকরণ অংশের প্রস্তুতির জন্য নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইটি দেখতে পারেন। কিছু অংশের নিয়মগুলো আয়ত্ত করলে পরীক্ষায় কমন না এলেও সঠিক উত্তর দেওয়া যায়। যেমন—সন্ধি, সমাস, ধ্বনির পরিবর্তন, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান, কারক, সমাস ইত্যাদি। বাংলা বানানে দখল বাড়ানোর জন্য ‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ খুবই কার্যকর।

❑❑ গণিত ও মানসিক দক্ষতা:
মো. হামিদ পারভেজ জানান, গণিতে নম্বর পাওয়া তুলনামূলক সহজ। প্রতিদিন কমপক্ষে তিন ঘণ্টা গণিতচর্চা করতে হবে। পাটিগণিতের পরিমাপ ও একক, ঐকিক নিয়ম, অনুপাত, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি ও ভগ্নাংশ থেকে প্রশ্ন আসে। বীজগণিতের সাধারণ সূত্রাবলি থেকে প্রশ্ন থাকে। সূত্র প্রয়োগ করে সংক্ষেপে ফল বের করার চর্চা করতে হবে যেন পরীক্ষাকেন্দ্রে দ্রুত ফল বের করা যায়। জ্যামিতির জন্য ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বর্গক্ষেত্র, রম্বস, বৃত্ত ইত্যাদির সাধারণ সূত্র ও সূত্রের প্রয়োগ জানতে হবে। অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির গণিত বই অনুসরণ করতে হবে। এ ছাড়া বাজারে গণিতের অনেক বই পাওয়া যায়। বিগত বছরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নসংবলিত একটি বই অনুশীলন করতে পারেন।
মানসিক দক্ষতা থেকে ভাষাগত যৌক্তিক বিচার, সমস্যা সমাধান, বানান ও ভাষা, যান্ত্রিক দক্ষতা, স্থানাঙ্ক সম্পর্ক, সংখ্যাগত ক্ষমতা ও সম্পর্ক এবং দিক নির্ণয় থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। মানসিক দক্ষতার একটি বই পড়তে হবে। বিগত বছরে বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে অনুশীলন করলে কাজে দেবে।

❑❑ সাধারণ জ্ঞান:
মুহাম্মদ মাহফুজুল আলম জানান, সাধারণ জ্ঞানের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তাই বিসিএসের বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির সিলেবাস অনুসারে পড়তে পারেন। বাজারে অনেক প্রকাশনীর সাধারণ জ্ঞানের বই পাওয়া যায়। পড়তে পারেন ‘আজকের বিশ্ব’, ‘নতুন বিশ্ব’, ‘স্বপ্নপূরণ’, ‘জ্ঞানকোষ’, ‘নয়া বিশ্ব’, ‘এটুবি ইনফোবক্স’, ‘এমপিথ্রি’। প্রতিদিন পত্রিকা পড়ুন, বিশেষ করে প্রথম ও শেষ পাতা, আন্তর্জাতিক এবং শিল্প ও বাণিজ্য পাতায় চোখ বুলিয়ে নিন। সাম্প্রতিক তথ্যের জন্য মাসিক কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, কারেন্ট ওয়ার্ল্ড পড়তে হবে। জব সলিউশন থেকে নিয়োগ পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন সমাধান করলে প্রস্তুতিতে সহায়ক হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here